Thursday, 25 January 2018

জনৈক কষ্টিত প্রেমিক ভাইএর টাইম লাইন থেকে নেয়া...।

শ্রদ্ধেয় হবু শাশুড়ি আম্মা, 😊
পত্রের শুরুতেই আমার ভক্তিপূর্ণ শ্রদ্ধা ও সালাম জানবেন। আশা করছি না, জানি আপনি ভালোই আছেন! একটু আগে আপনার মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে, সে বলেছে, 'বাসার সবাই ভালো আছে।' সেই সূত্রে নিশ্চিত হয়ে বললাম, আপনি ভালো আছেন।
পর সমাচার, অনেক কথা আছে, তবে পর সমাচারের আগে আমার পরিচয়টা দেওয়া দরকার। আপনি আমাকে না চিনলেও আমি আপনাকে বেশ ভালোভাবেই চিনি। আমি আপনার কনিষ্ঠ কন্যার দ্বিতীয় প্রেমিক। আপনি জেনে খুশি হবেন যে আপনার কনিষ্ঠ কন্যা ক্লাস নাইনে পড়ার সময় যে ছেলেটি তার প্রেমিক ছিল, তার সঙ্গে ব্রেকআপ হওয়ার পর থেকেই আমার সঙ্গে আপনার কন্যার মন দেওয়া-নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সম্পর্ক ভালো চলছিল, তবে ইদানীং কিছু সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
আম্মা, আপনার ওপর আমার বরাবরই অনেক ভরসা আছে। জানি, আপনার কনিষ্ঠ কন্যার আগের প্রেম ভাঙার পেছনে আপনার হাত ছিল। আপনার কন্যার অঙ্ক বইয়ের ভেতর থেকে ওর প্রেমিকের চিঠি আপনিই উদ্ধার করেছিলেন। বাসার সামনে দেখা করতে এসে লুকিয়ে লুকিয়ে এই আপনিই ওই ছেলেকে রাম ধোলাই দিয়েছিলেন। সেই ধোলাই খাওয়ার পর পরই ওদের ব্রেকআপ হয় এবং আমার আগমন ঘটে। মোট কথা, আপনার মতো দজ্জাল গোছের শাশুড়ি আম্মা (হবু) না থাকলে কখনোই আপনার কন্যার আগের ব্রেকআপ হতো না এবং তার সঙ্গে আমারও প্রেম হতো না। সে জন্য আপনার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। কিন্তু আম্মা ইদানীং মনে হচ্ছে, আপনি স্টার জলসার সিরিয়াল নিয়ে একটু বেশি ব্যস্ত থাকছেন আর সে কারণেই আপনার কন্যার ওপর আগের মতো নজরদারি করছেন না। সমস্যাটা সেখানেই। আপনার নজরদারি এড়িয়ে আপনার কন্যা রাত-বিরাতে, পড়ার ফাঁকে ফেসবুকে নিজের সুন্দর সুন্দর ছবি আপলোড দিচ্ছে, ওখানে অচেনা ছেলেরা কমেন্ট করছে। সেই কমেন্ট দেখে আমার হার্ট অ্যাটাকের মতো হলেও আপনার নিষ্ঠুর কন্যা কী সুন্দর করেই সেগুলোর উত্তর দিচ্ছে! ওদের সঙ্গে কমেন্ট বক্সকে চ্যাট বক্স বানিয়ে মজার মজার আড্ডা দিচ্ছে। আম্মা, বিশ্বাস করবেন না, এসব কমেন্ট পড়ে আমার দুই রাত ঘুম হয়নি, তিন দিন ভাত খেতে পারিনি। আপনার কন্যাকে যে নিষেধ করব, সেই সাহসও হচ্ছে না। এর আগে একদিন রাত ২টার দিকে হোয়াটস অ্যাপে দেখে শুধু বলেছিলাম-'এত রাতে হোয়াটস অ্যাপে কী?' তাতেই মহাভারতে মহাপ্রলয় ঘটে গিয়েছিল। আমি নাকি খুবই ছোট মন-মানসিকতার-এ রকম অপবাদ দিয়ে দুই সপ্তাহ সে যোগাযোগ বন্ধ রেখেছিল। অনেক কষ্টে তাকে শান্ত করতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু আম্মা, এভাবে আর কত দিন?
দিন দিন বিজ্ঞান অনেক এগিয়ে যাচ্ছে আর প্রেমিকদের কাছ থেকে প্রেমিকাকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য হাজারটা ফন্দি বের করছে। আপনার মতো দায়িত্ববান শাশুড়ি আম্মা থাকতে এগুলো মেনে নেওয়া যায় না।
আম্মা আপনার কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, দয়া করে হিন্দি সিরিয়াল, জলসার সিরিয়াল এগুলো দেখা একটু কমিয়ে দিন। আর কয়টা দিনই তো, কথা দিচ্ছি আপনার কন্যাকে আমাদের ঘরে তোলার পর আপনাকে আমি কয়েক শ সিরিয়ালের সিডি কিনে উপহার দেব! আপনি যেন দিন-রাত বিনা বাধায় সেগুলো দেখতে পারেন, সে জন্য আইপিএসেরও ব্যবস্থা করে দেব।
ইতি-
আপনার কনিষ্ঠ কন্যার দ্বিতীয় প্রেমিক।

No comments:

Post a Comment