Friday, 26 January 2018

দুঃশ্চিন্তায় নিজেকে ধ্বংসের মুখোমুখি করার নাম জীবন নয়। জীবন স্বচ্ছ ও সুন্দর। ইহার ব্যবহার পবিত্রতার সাথে করুন।

সামান্য হোক বা অধিক কোন সমস্যা, আমরা মানুষগুলো হিমসিম খেয়ে যাই সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজতে খুঁজতে। কখনো এমনও হয়, যাদের কাছে জীবনে হেল্প নেয়ার প্রশ্নই আসতো না, তাদেরই কাছে নত হয়ে হেল্প চাইতে থাকি এবং নিরাশ হলে লজ্জা ডাকার স্থান আর থাকে না। অদ্ভুত রকমের ডিপ্রেশন কাজ করে মস্তৃস্কে।
কখনো বড় কখনো ছোটো সমস্যায় এদিক ওদিক ছুঁটোছুটি করি আর ভাবি " হায়রে কত মানুষের বিপদে আমি এগিয়ে এলাম, আর আমার বেলাতে এত হয়রানী"? তাছাড়া যখনই সমস্যায় পড়ি আমরা আমাদের চিন্তা ভাবনার দিকগুলো একমুখী করে ফেলি।হুউমম আমরা একমুখী চিন্তাতেই অস্থির থাকি বেশি। নিজে নিজে কথা বলার স্প্রিড বাড়ে তখন , প্রশ্নের অভাব হয়না সেইসময় । যেমন "কেন হলো, কি করেছি, আমার কি দোষ, আমার সাথেই কেনো হলো, কি পাপ করছি, এমনও নানা প্রশ্ন উঠে মনে।
আমাদের মাঝে অনেকই আছি যারা, সমস্যা আসল না নকল তা নিয়ে ভাবিনা, আগেই দুঃচিন্তায় বিভোর হয়ে যাই (চিন্তাবিদের মতোন)। প্রতিটি মানুষকে আল্লাহ্ যেমন আলাদাভাবে সৃষ্টি করেছেন, তেমনি প্রতিটি মানুষের দুঃচিন্তাও আলাদা। অল্প সংখ্যক সমস্যা আছে যা আমাদের মিলে যায় মাত্র। সমস্যায় পরার পর আমাদের একটিই চাওয়া থাকে আর তা হলো “সমাধান”।
সমাধানের বিপরীতে অনেকেই আছেন যারা ভূল কাজ করে বসেন। অনিদ্রা, ভালো লাগেনা, মন ভালো নেই এসব কারনে অনেকেই আছেন যারা ড্রাগসও নিয়ে ফেলেন, বা নিজেকে একাকিত্বের মাঝে তালাবন্ধ করেন। এগুলো আসল সমাধান নয়। নিজেকে ঠিক রাখার জন্য দরকার নিজের কিছু পরিবর্তন ও সুন্দর উদ্দ্যোগ।
জ্বি ,, এটাই সত্য যে প্রথমে নিজেকে কখনো অন্যের সাথে তুলনা করবেন না। আমাকে দিয়ে ভালো কিছু হহবে না এমন নেগেটিভ চিন্তা ভাবনা থেকে বিরত থাকুন। সবকিছুকে পজেটিভভাবে গ্রহন করতে চেষ্টা করুন ,তাহলে মনে শক্তি পাবেন।
ইশস ! আমি কেনো বড়লোকের সন্তান হলাম না এমন ফালতু চিন্তা নিয়ে এবং কাছের মানুষদেরকে নিয়ে অনর্থক বেশি দুঃচিন্তা করবেন না।
মনে রাখবেন, দুঃশ্চিন্তা সমস্যার সমাধান করে না বরং বাড়ায় । অন্যের প্রতি ঘৃণা বজায় রাখবেন না। এতে কেবল দুঃশ্চিন্তা বাড়েই এবং মানসিক শান্তি নষ্ট করে, যা আপনার স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে যে কোন মূহুর্তে ।।
নিজের অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিন, শিক্ষাকে মনে রাখুন, ভুলকে ভুলে চেষ্টা করুন নতুন কিছু সৃষ্টি করতে।
অতীতের ভুল নিয়ে অতিরিক্ত নাড়াচাড়া করবেন না,করলে শিউর তিক্ততা বেড়ে গিয়ে বর্তমানের সুন্দর সময়কে নষ্ট করে দিবে।
হাসিখুশি থাকুন এবং সবসময় হাসিখুশী থাকার অভ্যাসে দুঃশ্চিন্তা পালাতে থাকবে । সেই সাথে অন্যদেরকেও হাসিখুশী রাখতে চেষ্টা করুন।এটা একটা ইবাদত ও । অন্যের দোষ-ত্রুটি ক্ষমা-সুন্দর দৃষ্টিতে দেখুন।
অন্যেরা আপনাকে নিয়ে কি কি ভাববে পারে তা নিয়ে চিন্তিত হবার কিছু নেই। সময়ের কাজ সময়ে করুন, কিছুতেই এখনকার কাজ পরে করার জন্যে ফেলে রাখবেন না। বোকারা অলস, তারা আগের কাজ পরে করে মনে রাখবেন।
অপরের উপকারী হতে গিয়ে ,অন্যের করুনার পাত্র হবার দরকার নেই বরং অন্যের পেরেশানীতে নামাজ পড়ে তার জন্য দোয়া করুন।
পরিশেষে মনে রাখবেন, জীবন একটি মহাবিদ্যালয় যেখানে আপনি শিখতে এসেছেন ,বড় হবার চেষ্টায়। অহেতুক দুঃশ্চিন্তায় নিজেকে ধ্বংসের মুখোমুখি করার নাম জীবন নয়। জীবন স্বচ্ছ ও সুন্দর। ইহার ব্যবহার পবিত্রতার সাথে করুন।
লেখা : ফারজানা

No comments:

Post a Comment