Thursday, 12 April 2018

বীর প্রতীক তারামন বিবি

https://www.facebook.com/zahidbd24





তারামন বেগম (তারামন বিবি নামে পরিচিত) (জন্ম- কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর উপজেলার কাচারী পাড়া গ্রামে) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর নারী মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার সাহসিকতার জন্য ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর প্রতীক খেতাব প্রদান করে।

জন্ম ও কর্মজীবন
তারামন বিবির জন্ম কুড়িগ্রাম জেলার চর রাজিবপুর উপজেলার শংকর মাধবপুর গ্রামে। তাঁর বাবার নাম আবদুস সোহবান এবং মায়ের নাম কুলসুম বিবি।তাঁর স্বামীর নাম আবদুল মজিদ। তাঁদের এক ছেলে এক মেয়ে।

মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা

তারামন বিবি ১১ নং সেক্টরে নিজ গ্রাম কুড়িগ্রাম জেলার শংকর মাধবপুরে ছিলেন। তখন ১১ নং সেক্টরের নেতৃত্বে ছিলেন সেক্টর কমান্ডার আবু তাহের। তিনি ‘বীর উত্তম’ প্রতীক প্রাপ্ত।

মুহিব হাবিলদার নামে এক মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবিকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন। যিনি তারামনের গ্রামের পাশের একটি ক্যাম্পের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি তারামনকে ক্যাম্পে রান্নাবান্নার জন্য নিয়ে আসেন। তখন তারামনের বয়স ছিলো মাত্র ১৩ কিংবা ১৪ বছর। কিন্তু পরবর্তিতে তারামনের সাহস ও শক্তির পরিচয় পেয়ে মুহিব হাবিলদার তাঁকে অস্ত্র চালনা শেখান।

একদিন দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় তারামন ও তার সহযোদ্ধারা জানতে পারলেন পাকবাহিনীর একটি গানবোট তাদের দিকে আসছে। তারামন তার সহযোদ্ধাদের সাথে যুদ্ধে অংশ নেন এবং তারা শত্রুদের পরাস্ত করতে সক্ষম হন। এরপর তারামন অনেক যুদ্ধে পুরুষ মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে অংশ নেন। অনেক বার তাদের ক্যাম্প পাকবাহিনী আক্রমণ করেছে,তবে ভাগ্যের জোরে তিনি প্রতিবার বেঁচে যান।

পরবর্তীতে

যুদ্ধে শেষে ১৯৭৩ সালে তৎকালীন সরকার মুক্তিযুদ্ধে তারামন বিবিকে তার সাহসীকতা ও বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য “বীর প্রতীক” উপাধিতে ভূষিত করেন। কিন্তু ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তাঁকে খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি। ১৯৯৫ সালে ময়মনসিংহের একজন গবেষক প্রথম তাঁকে খুঁজে বের করেন এবং নারী সংগঠন গুলো তাঁকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। সেই সময় তাকে নিয়ে পত্রিকায় প্রচুর লেখালেখি হয়। অবশেষে ১৯৯৫ সালের ১৯শে ডিসেম্বর তৎকালীন সরকার এক অনাড়ম্বর পরিবেশে আনুষ্ঠানিক ভাবে তারামন বিবিকে বীরত্বের পুরস্কার তাঁর হাতে তুলে দেন।

বর্তমানে তারামন বিবি কুড়িগ্রাম এর রাজিবপুর তার স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে আছেন। স্বাধীনতার ২৪ বছর পর্যন্ত তারামন সরকারি কোন সাহায্য পাননি। নারী মুক্তিযোদ্ধা বলে তাঁকে অবহেলা করার হয়েছে –এমনটি আক্ষেপ তার রয়েছে।

তারামন বিবিকে নিয়ে আনিসুল হকের একটা বই আছে...”বীর প্রতীকের খোঁজে”।‘করিমন বেওয়া’ আনিসুল হকের রচিত একটি বাংলা নাটক যার কেন্দ্রীয় চরিত্র বাংলাদেশের অন্যতম নারী মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবি।

ছদ্মবেশী নানা ভূমিকায় বীর প্রতীক তারামন বিবি

সমাজ সংস্কৃতি
ছদ্মবেশী নানা ভূমিকায় বীর প্রতীক তারামন বিবি

   নারী মুক্তিযোদ্ধাদের কথা
        প্রধানমন্ত্রী, এবার একটু ‘অহংকার’ করতে পারেন
        নারী মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাঁথার এখনও অনেক অজানা
        সহায়তার দাবি বীরাঙ্গনা, অসহায় মুক্তিযোদ্ধাদের
        পৌরসভার ঝাড়ুদার নারী মুক্তিযোদ্ধা ফাতেমা খাতুন
        ‘প্রতিদিন হাসপাতালের পাশে হাত-পায়ের স্তূপ জমতো’
        বিহারিদের বাঙালি নিধন দেখেছেন কাওসার বেগম
        মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানোর দাবি তারামন বিবির
        ‘মুক্তিযোদ্ধারা উৎসবের আমেজে যুদ্ধে যেতেন'
        কচুরি পানা মাথায় দিয়ে আত্মরক্ষা করেছেন রাবেয়া
        ‘মুক্তিযোদ্ধা হয়েও মেয়ের জন্য উৎকোচ দিতে হয়েছে'
        গোয়াল ঘরে রাত কাটাতে হয়েছে তাহরীমাদের
        ফোরকানের ছবি নিয়ে তাঁকে খুঁজতো পাক বাহিনী
        তেইশে মার্চ সশস্ত্র প্যারেড করেন ফোরকান
        সবজি বিক্রি করে দিন চলে মুক্তিযোদ্ধা মীরার
        ‘রজব আলি খুনের পর আর গ্রামে থাকতে পারিনি’
        ঝালকাঠির বীর সাহসী মুক্তিযোদ্ধা শেফালী রানী
        কেনেডির কাছে যুদ্ধ পরিস্থিতি তুলে ধরেন মিনারা
        স্বেচ্ছাসেবিকা বাহিনীর অন্যতম সংগঠক মিনারা
        বীরাঙ্গনাদের অধিকারের জন্য লড়ছেন মুক্তিযোদ্ধা সাফিনা লোহানী
        মহিলা মুক্তি ফৌজের অন্যতম সংগঠক নিবেদিতা
        মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বঞ্চিত আলো রানী ও মধুমিতা
        মিরসরাইয়ের নারী মুক্তিযোদ্ধা আলো রানী ও মধুমিতা
        ঝালকাঠির মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষাবিদ অঞ্জলি রায় গুপ্তা
        নতুন প্রজন্ম নিয়ে আশাবাদী মুক্তিযোদ্ধা মেহেরুন্নেসা
        নারী মুক্তিযোদ্ধা ও লেখিকা মেহেরুন্নেসা মেরী
        চার দশক ধরে সুবিধা বঞ্চিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা রমা
        নয় নম্বর সেক্টর মহিলা মুক্তিবাহিনীর প্রধান রমা দাস
        সমাজসেবায় রত নারী মুক্তিযোদ্ধা পাপড়ি বসু
        কুমিল্লার বীর নারী মুক্তিযোদ্ধা পাপড়ি বসু
        এখনও সনদ না পাওয়ায় হতাশ মুক্তিযোদ্ধা রুমা
        সিলেটের বীর নারী মুক্তিযোদ্ধা রুমা চক্রবর্তী
        স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত মুক্তিযোদ্ধা ডা. বদরুন নাহার
        চাঁদপুরের বীর সাহসী নারী মুক্তিযোদ্ধা বদরুন নাহার
        যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজে সাফল্য চান লুৎফুন নেসা
        মুন্সীগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. লুৎফুন নেসা
        ‘চট্টগ্রামের অগ্নিকন্যা' খ্যাত মুক্তিযোদ্ধা খালেদা
        ‘মুক্তি আপা’ নামে প্রখ্যাত সেই খালেদা খানম
        বিপদেও হাল ছাড়েননি নারী মুক্তিযোদ্ধা মাজেদা
        রাজাকারদের বিচার চান মুক্তিযোদ্ধা সাবিত্রী
        কুমিল্লার সুবিধা বঞ্চিত নারী মুক্তিযোদ্ধা কাজী হেলেন

প্রিয় জন্মভূমিকে শুত্রুমুক্ত করতে জান-মান বাজি রেখে লড়াই করেছেন অসংখ্য বীর বাঙালি নারী৷ তবে তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে ত্যাগী ও দুঃসাহসিক অভিযান চালিয়েছেন যাঁরা তাঁদেরই একজন তারামন বিবি বীর প্রতীক ৷
Taramon, Bibi, Bir, Protik, Kurigram, Bangladesch, ছদ্মবেশী, নানা, ভূমিকা, বীর, প্রতীক, তারামন, বিবি, স্বাধীনতা, ১৯৭১, বাংলাদেশ, পাক সেনা, পাকিস্তানি, বাহিনী, যুদ্ধ,

তারামন বিবি বীর প্রতীক

তারামন বিবি৷ একটি বীরত্বপূর্ণ নাম ৷ একই সাথে একটি ইতিহাস৷ জন্ম ১৯৫৭ সালে৷ কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নের শংকর মাধবপুর গ্রামে৷ বাবা আবদুস সোবাহান, মা কুলসুম বেওয়া৷ তাঁর এক ছেলে এক মেয়ে৷ ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন নানা ভূমিকায়৷ ১৯৭৩ সালে তৎকালীন সরকার মুক্তিযুদ্ধে তারামন বিবিকে তাঁর সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ‘বীর প্রতীক' উপাধিতে ভূষিত করেন৷ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য আরো একজন বীর নারী ‘বীর প্রতীক' খেতাব পান৷ তিনি হলেন অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম৷

তারামন বিবি ১১ নং সেক্টরে নিজ গ্রাম কুড়িগ্রাম জেলার শংকর মাধবপুরে ছিলেন৷ মুহিব হাবিলদার নামে এক মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবিকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন৷ যিনি তারামনের গ্রামের পাশের একটি ক্যাম্পের দায়িত্বে ছিলেন৷ তিনি তারামনকে ক্যাম্পে রান্নাবান্নার প্রস্তাব দেন৷ প্রথমে তারামনের মা কুলসুম বেওয়া এতে রাজি হন নি৷ পরে মুহিব হাবিলদার তারামনকে ধর্মমেয়ে হিসেবে গ্রহণ করেন৷ এরপরই তারামনকে দশঘরিয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের শিবিরে রান্নার কাজে পাঠাতে রাজি হন তাঁর মা৷ তখন তারামনের বয়স ছিলো ১৪ বছর৷ কিন্তু পরবর্তীতে তারামনের সাহস ও শক্তির পরিচয় পেয়ে মুহিব হাবিলদার তাঁকে অস্ত্র চালনা শেখান৷
Freedom Fighter Freiheitskämpferin Taramon Bibi Bir Protik

সম্প্রতি তারামন বিবির হাতে অর্থ সহায়তা তুলে দিচ্ছেন স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ (ফাইল ছবি)

ডয়চে ভেলের সাথে আলাপচারিতায় নিজের সৈনিক হয়ে ওঠার গল্প শোনালেন তারামন বিবি৷ এছাড়াও দীর্ঘ নয়মাসের অসংখ্য ঘটনার মাঝ থেকে স্মৃতি হাতড়িয়ে জানালেন একদিনের সরাসরি যুদ্ধের ঘটনা৷ ঘটনা ছিল ঠিক মধ্য দুপুরের৷ সবাই খেতে বসেছে৷ তারামনকে পাকিস্তানি সেনাদের কেউ আসছে কি না তা দেখার জন্য বলা হলো৷ তারামন সুপারি গাছে উঠে দূরবীন দিয়ে চারিদিকে লক্ষ্য রাখছিলেন৷ হঠাৎ দেখলেন, পাক বাহিনীর একটি গানবোট তাদের দিকে আসছে৷ সবার খাওয়া বন্ধ৷ দ্রুত প্রস্তুতি নিয়ে অ্যাকশনের অপেক্ষা করতে লাগলেন সবাই৷ তারামন তাঁর সহযোদ্ধাদের সাথে যুদ্ধে অংশ নেন৷ দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যুদ্ধ চলে৷ সেদিন তারা শত্রুদের পরাস্ত করতে সক্ষম হন৷ এরপর তারামন অনেক যুদ্ধে পুরুষ মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে অংশ নেন৷ অনেক বার তাদের ক্যাম্প পাকবাহিনী আক্রমণ করেছে,তবে ভাগ্যের জোরে তিনি প্রতিবার বেঁচে যান৷

শুধু সম্মুখ যুদ্ধই নয়৷ নানা কৌশলে শত্রু পক্ষের তৎপরতা এবং অবস্থান জানতে গুপ্তচর সেজে সোজা চলে গেছেন পাক বাহিনীর শিবিরে৷ কখনও সারা শরীরে কাদা মাটি, চক, কালি এমনকি মানুষের বিষ্ঠা পর্যন্ত লাগিয়ে পাগল সেজেছেন তারামন৷ চুল এলো করে বোবা সেজে পাক সেনাদের সামনে দীর্ঘ হাসি কিংবা কান্নার অভিনয় করেছেন৷ কখনও প্রতিবন্ধী কিংবা পঙ্গুর মতো করে চলা ফেরা করে শত্রুসেনাদের খোঁজ নিয়ে এসেছেন নদী সাঁতরে গিয়ে৷ আবার কলা গাছের ভেলা নিয়ে কখনও পাড়ি দিয়েছেন ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদী৷ আর জান-মানের কথা না ভেবেই এসব দুঃসাহসী কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন একমাত্র দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য৷

প্রতিবেদন: হোসাইন আব্দুল হাই

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

No comments:

Post a Comment